ওভারলোড কাকে বলে? | ওভারলোড প্রটেক্টর সম্পর্কে ধারণা | overload protector in refrigerator

আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে বিভিন্ন ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যবহার করা হয়। এই সব পণ্যের গুরুত্বপূর্ণ পার্স সম্পর্কে ধারণা থাকে না। ওভারলোড প্রটেক্টর ও রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ার কন্ডিশনার এর খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ।
ওভারলোড প্রটেক্টর



আরো পড়তে: থার্মোস্ট্যাট কাকে বলে ফ্রিজের থার্মোস্ট্যাট এর কাজ কি | Thermostat switch in refrigerator



ওভারলোড প্রটেক্টর :

বৈদ্যুতিক মোটর বা যন্ত্রপাতির মধ্যে এদের রেটিং অপেক্ষা বেশি কারেন্ট প্রবাহিত হওয়াকে ওভারলোড বলে। ওভারলোডের কারণে মোটর অতিরিক্ত তাপের সৃষ্টি হয়। এতে মোটরের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।মোটরকে এ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে হলে বৈদ্যুতিক বর্তনীতে এক ধরনের নিরাপত্তামূলক ডিভাইস ব্যবহার করতে হয়, যাকে ওভারলোড প্রটেক্টর বলে। 

ওভারলোড কি :

ওভারলোড প্রটেক্টর এক ধরনের স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ডিভাইস, যা তাপের সাহায্যে পরিচালিত হয়ে ওভারলোডের সময় মোটরের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে থাকে। একে সংক্ষেপে ওভারলোড বলা হয়। 


ওভারলোড প্রটেক্টর এর প্রয়োজনীয়তা :

ওভারলোড প্রটেক্টর তাপের সাহায্যে চালিত নিরাপত্তামূলক সুইচ। বৈদ্যুতিক মোটরের নিরাপত্তার জন্য এ ওভারলোড প্রটেক্টর ব্যবহৃত হয়। অধিক কারেন্ট গ্রহণে যাতে বৈদ্যুতিক মোটরের তার পুড়ে না যায় অথবা অধিক তাপমাত্রায় কম্প্রেসার মোটর যাতে করে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তার জন্য ওভারলোড প্রটেক্টর ব্যবহৃত হয়। ক্রটিযুক্ত রিলে অপর্যাপ্ত বৈদ্যুতিক চাপ, ঢিলা সংযোগ, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট অথবা কম্প্রেসারের যান্ত্রিক গোলযোগ ইত্যাদি কারণে মোটর চালু হতে ব্যর্থ হলে অথবা চালু অবস্থায় অধিক কারেন্ট গ্রহণ করলে ওভারলোড প্রটেক্টর মোটরকে রক্ষা করে। 


আরো পড়তে : রিলে কি | রিলের কাজ কি | রিলে কোথায় ব্যবহার করা হয় | what is relay in electrical


ব্যবহৃত স্হানের ওপর ভিত্তি করে ওভারলোড প্রটেক্টর দু'প্রকার :

 ইন্টারনাল ওভারলোড প্রটেক্টর এবং এক্সটারনাল ওভারলোড প্রটেক্টর।


ইন্টারনাল ওভারলোড প্রটেক্টর :

যে প্রটেক্টর কম্প্রেসার হাউজিংয়ের অভ্যন্তরে স্হাপন করা হয়, তাকে ইন্টারনাল ওভারলোড প্রটেক্টর বলে। ইন্টারনাল ওভারলোড প্রটেক্টর সীল্ড টাইপ বা হারমেটিক কম্প্রেসারে ব্যবহৃত হয়। এটি সরাসরি কম্প্রেসার অথবা ওয়াইন্ডিংয়ের মধ্যে স্হাপন করা হয়। এ ধরনের ওভারলোড প্রটেক্টর কম্প্রেসার অথবা মোটর ওয়াইন্ডিং- এর সাথে সিরিজ সংযোগ করা থাকে। বৈদ্যুতিক লাইনের সাথে সংযোগের জন্য এতে দুইটি টার্মিনাল থাকে। একটি হলো আপার টার্মিনাল এবং অপরটি লোহার টার্মিনাল। আপার টার্মিনালটি বাইমেটাল স্ট্রিপ থেকে নেয়া হয়। বৈদ্যুতিক বর্তনীকে ক্লোজড অথবা ওপেন করার জন্য এতে দুইটি সিলভার কন্টাক্ট থাকে।যা সাধারণ অবস্থায় ক্লোজড পজিশনে থাকে। কোনো কারণে সিস্টেম অতিরিক্ত কারেন্ট প্রবাহ অথবা অতিরিক্ত তাপের সৃষ্টি হলে বাইমেটাল স্ট্রিপটি বাঁকা হয়ে কন্টক্ট পয়েন্ট দুইটি খুলে গিয়ে বর্তনীকে ওপেন করে দেয়। ফলে বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। আবার তাপমাত্রা কমে স্বাভাবিক অবস্থায় এলে কন্টক্ট পয়েন্ট দুইটি পূর্বের অবস্থায় ফিরে এসে বর্তনীকে অন করে দেয়।


একটি বাইমেটাল টাইপ ইন্টার্নাল ওভারলোড প্রটেক্টরের গঠন দেখানো হয়েছে। চিত্রে প্রদর্শিত অংশগুলো হলো-

(১) বাইমেটাল স্ট্রিপ (২) আপার টার্মিনাল (৩) সিলভার কন্টাক্ট (৪) লোয়ার টার্মিনাল (৫) থার্মো-সেটিং ইপক্সি কম্পাউন্ড (৬) ইস্পাতের ক্যান (৭) সিরামিক ইনস্যুলেট।

বাইমেটাল টাইপ ইন্টার্নাল ওভারলোড
বাইমেটাল টাইপ ইন্টার্নাল ওভারলোড

এক্সটারনাল ওভারলোড প্রটেক্টর :

যে ওভারলোড প্রটেক্টর কম্প্রেসার হাউজিংয়ের বাইরে স্হাপন করা হয়, তাকে এক্সটারনাল ওভারলোড প্রটেক্টর বলে। এ ধরনের ওভারলোড প্রটেক্টর কম্প্রেসার হাউজিংয়ের বাইরে বৈদ্যুতিক লাইনের সাথে সিরিজে সংযোগ করা থাকে। এতে একটি বাইমেটাল স্ট্রিপ বা ডিস্ক থাকে এবং ডিস্কের নিচে একটি হিটিং এলিমেন্ট বা কয়েল থাকে। এর হিটিং এলিমেন্টটি মোটর ও কম্প্রেসার থেকে তাপ গ্রহন করে। এছাড়া অতিরিক্ত কারেন্ট প্রবাহের ফলেও এটি উত্তপ্ত হয়। হিটিং এলিমেন্ট কর্তৃক গৃহীত তাপ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হলে বাইমেটাল স্ট্রিপ বা ডিস্ক বাঁকা হয়ে কন্টক্ট পয়েন্ট খুলে গিয়ে কারেন্ট প্রবাহ বন্ধ করে দেয়। তাপমাত্রা কমে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় এলে বাইমেটালিক স্ট্রিপ পূর্বের অবস্থায় ফিরে এসে বর্তনীকে অন করে।


একটি বাইমেটাল টাইপ এক্সটারনাল ওভারলোড প্রটেক্টরের গঠন দেখানো হয়েছে। চিত্রে প্রদর্শিত অংশগুলো হলো-

(১) বাইমেটাল ডিস্ক (২) কন্টক্ট (৩) হিটার কয়েল (৪) পয়েন্টস ওপেন।


এক্সটারনাল ওভারলোড প্রটেক্টর
এক্সটারনাল ওভারলোড প্রটেক্টর
 

আরো পড়তে : ক্যাপাসিটর কি | ক্যাপাসিটর কিভাবে কাজ করে | How does a capacitor work


ওভারলোড প্রটেক্টর পরীক্ষা পদ্ধতি :

ওভারলোড প্রটেক্টর ভালো আছে কি-না তা জানার জন্য দুই ধরনের পরীক্ষা করতে হয়।


কন্টিনিউটি টেস্ট :

এর হিটিং কয়েল এবং কন্ট্রাক পয়েন্টের মধ্যে সংযোগ আছে কি-না ( কন্টিনিউটি পরীক্ষা ) একটি অ্যাভোমিটার বা ওহমমিটার দ্বারা এ পরীক্ষা করা যায়। অ্যাভোমিটার দ্বারা পরীক্ষা করতে হলে এর সিলেকটিং নবকে প্রথমে ওহম মিটার পজিশনে স্হাপন করে এর কর্ড দু'টিকে দুই পয়েন্টে ধরলে যদি কন্টিনিউটি দেখায় তবে বুঝতে হবে ভালো আছে।


ট্রিপিং টেস্ট :

কি পরিমাণ কারেন্ট প্রবাহে কত সময় এটি ট্রিপ করে- এ পদ্ধতিতে ওভারলোড প্রটেক্টর, একটি ভ্যারিয়েবল রেজিস্ট্যান্স এবং একটি অ্যাম্পিয়ার মিটার সিরিজে সংযোগ করে দেখতে হবে কি পরিমাণ কারেন্ট প্রবাহে , কত সময় পরে এটি ট্রিপ করে এবং উক্ত সময়ে ঐ পরিমাণ কারেন্ট প্রবাহ মোটরের জন্য নিরাপদ হবে কি-না অথবা অগ্নিশিখা দ্বারা উত্তপ্ত করলে যদি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় এবং ঠান্ডা করলে যদি পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসে তবে বুঝতে হবে এটি ভালো আছে।


ওভারলোড প্রটেক্টরের ব্যবহার :

রেফ্রিজারেটর , ডিপফ্রিজার , আইস মেকার , ডিহিউমিডিফায়ার , ছোট কন্ডেনসিং ইউনিট , এয়ার কুলার , ওয়াটার কুলার , ইত্যাদি ক্ষেত্রে ওভারলোড প্রটেক্টর ব্যবহৃত হয়।

শেষ কথা : 

আপনাদের এখানে ওভারলোড প্রটেক্টর সম্পর্কে আমার জানা ধারণা শেয়ার করলাম। যদি কোন কিছু ভুল থাকে তবে জানাবেন সংশোধন করে দেবো। যদি লেখাটি ভালো লাগে তবে শেয়ার করুন। আবার কথা হবে অন্যকোন লেখায় এই পর্যন্ত ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন আল্লাহ হাফেজ।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url