রিলে কি | রিলের কাজ কি | রিলে কোথায় ব্যবহার করা হয় | what is relay in electrical

রিলে কি | রিলের কাজ কি | রিলে কোথায় ব্যবহার করা হয় | what is relay in electrical


রিলে এক ধরনের ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক সুইচিং ডিভাইস। আয়রন কোরের ওপর তার প্যাঁচিয়ে রিলে তৈরি করা হয়। 


আরো পড়তে : ওভারলোড কাকে বলে?  ওভারলোড প্রটেক্টর সম্পর্কে ধারণা -


রিলে কি

রিলে এক ধরনের ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক সুইচিং ডিভাইস। আয়রন কোরের ওপর তার প্যাঁচিয়ে রিলে তৈরি করা হয়। এটি কয়েলের ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক ফাংশনের ওপর ভিত্তি করে কার্য সম্পাদন করে থাকে।

রিলে কত প্রকার ও কি কি

প্রধানত ৭ প্রকার রিলে ব্যবহৃত হয়। এ প্রকারভেদ মূলত রিলে কি দ্বারা কাজ করে থাকে তার উপর ভিত্তি করে করা হয়।

১। কারেন্ট কয়েল রিলে

কারেন্ট কয়েল রিলে ( Current Coil Relay) এক ধরনের ম্যাগনেটিক রিলে। এ ধরনের রিলেতে মোট তিনটি সংযোগ থাকে। একটি রানিং বা মেইন, একটি স্টার্টিং এবং অন্যটি লাইনের সাথে সংযোগ থাকে। রিলে কয়েকটি লাইন ও মেইনের সাথে সংযোগ করা হয়। কন্ট্যাক্ট পয়েন্ট স্টার্টিং ও লাইনের মধ্যে সাধারণত অবস্থায় খোলা থাকে। মোটরে বিদ্যুৎ সরবরাহ দিয়ে বিদ্যুৎ প্রথমে রানিং ও রিলে কয়েলের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়। এতে মোটর চালু না হওয়ার জন্য অধিক কারেন্ট গ্রহণ করে ফলে রিলে কয়েলটি শক্তিশালী চুম্বকে পরিণত হওয়ায় কন্ট্রাক্টিং লিভারটিকে টেনে ধরে এবং এতে স্টার্টিং লাইনে সংযোগ করে। স্টার্টিং এ সংযোগ দেয়ার মুহূর্তের মধ্যে মোটর চালু হয়। মোটর চালু হওয়ার সাথে সাথে কারেন্ট প্রবাহের পরিমাণ কমে যায়। এতে কন্ট্যাক্ট লিভার পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে এবং স্টার্টিং কয়েল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। এ সময় মোটর রানিং কয়েলে চলতে থাকে এবং অনবরত এভাবেই চলতে থাকে। প্রতিবার চালু করার সময় কারেন্ট কয়েল রিলে স্টার্টিং ওয়াইন্ডিং এ সংযোগ দিয়ে আবার বিচ্ছিন্ন করে। রিলেটি প্রধানত কারেন্টে চালিত হয় বলে একে কারেন্ট কয়েল রিলে বলে।

২। পটেনশিয়াল রিলে  

পটেনশিয়াল রিলে ( potential Relay ) একে অনেক সময় ভোল্টেজ রিলেও বলা হয়। এটি সচরাচর হাই টর্ক ক্যাপাসিটর স্ট্যার্ট মোটরে ব্যবহৃত হয়। এ ধরনের রিলে চুম্বক শক্তির সাহায্যে কাজ করে। রিলের কন্টাক্ট পয়েন্টদ্বয় সাধারণ অবস্থায় বন্ধ থাকে। বিদ্যুৎ প্রবাহ হলে একই সাথে স্টাটিং ও রানিং ওয়াইন্ডিংয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ হয়ে মোটর চালু হয়। এতে একটি ম্যাগনেটিক কয়েল বা আর্মেচার থাকে।মোটর চালু হবার পরই এতে চৌম্বকত্বের সৃষ্টি হয়। এ চুম্বক শক্তি কন্টাক্ট পয়েন্টকে টেনে স্টাটিং পয়েন্টকে খুলে দেয়। ফলে মোটর রানিং অবস্থায় স্টাটিং ওয়াইন্ডিং সরবরাহ লাইন হতে বিচ্ছিন্ন থাকে। বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ হলে অর্থাৎ ইউনিট বন্ধ হলে কয়েলের চৌম্বকত্ব লোপ পায় এবং কন্টাক্ট পয়েন্ট পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে।


আরো পড়তে : থার্মোস্ট্যাট কাকে বলে ফ্রিজের থার্মোস্ট্যাট এর কাজ কি | Thermostat switch in refrigerator


৩। হট ওয়্যার বা বাইমেটালিক রিলে 

হট ওয়্যার রিলে ( Hot wire Realy ) এক ধরনের থার্মাল রিলে। এ রিলেতে দুটি বাইমেটাল পাত থাকে।পাতগুলো তাপের প্রভাবে বাঁকা হয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। স্টাটিং এর পাত অপেক্ষাকৃত পাতলা যা অল্প তাপমাত্রায়ই কন্টাক্ট পয়েন্ট থেকে দূরে সরে যায়। আর রানিং এর পাত অপেক্ষাকৃত মোটা থাকে বা স্বাভাবিক অবস্থায় তার কন্টাক্ট পয়েন্টটির সাথে লেগে থাকে কিন্তু কোন কারণে অধিক প্রবাহিত হলে পাতটি অধিক গরম হয়, ফলে কন্ট্যাক্ট পয়েন্ট থেকে সরে যায়। এতে মোটর অফ হয় এবং এ সময় রিলেটি ওভারলোড প্রটেক্টর হিসেবেও কাজ করে। মোটর চালু করার সময় উভয় পাতের কন্ট্রাক পয়েন্টে লেগে (NC) থাকে। চালু করার জন্য লাইন সংযোগ দিলে উভয় পাত দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। এতে মোটর চালু হয় এবং স্টার্টিং এর পাত বাঁকা হয়ে কন্টাক্ট পয়েন্ট থেকে সরে যায়। তখন রানিং এর পাত দ্বারাই মোটর চলে, ফলে এ পাত থেকে যে তাপ নির্গত হয় তাতে স্টাটিং এর পাত মোটর চলাকালীন কন্টাক্ট পয়েন্ট থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে। মোটর চলতে চলতে এক সময় অফ হলে উভয় পাত ঠান্ডা হয় এবং স্টাটিং এর পাত পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে। ফলে পরবর্তী সময় চালু করার জন্য উপযোগিতা সৃষ্টি করে। কোন কারণে যদি মোটর চালু হতে না পারে তাহলে উভয় বাঁকা হয়ে লাইন বিচ্ছিন্ন সংযোগ করে এবং মোটরকে রক্ষা করে। সম্পূর্ণ রিলেটি একটি তাপ নিরোধক বাক্সের ভেতর বসানো হয়। পাতগুলো বাঁকা হলে যাতে দ্রুত ঠান্ডা হয়ে সংযোগ দিতে না পারে সেজন্য এরূপ ব্যবস্হা করা হয়। এধরনের রিলে ব্যবহৃত হলে আলাদাা ওভারলোড প্রটেক্টর ব্যবহৃত হয় না। হট ওয়্যার রিলে একটি থার্মাল রিলে। এটি নিঃশব্দে কাজ এবং খুবই কার্যকরী একটি স্টাটিং ডিভাইস। এ ধরনের রিলে আবাসিক রিফ্রিজারেটর ও চেষ্ট ফ্রিজ এর মোটরের স্টার্টিং ডিভাইস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে ব্যবহারের কিছুটা সীমাবদ্ধতা আছে। সেগুলো হলো- 

১. ভোল্টেজ ঠিক থাকতে হবে। ভোল্টেজ উঠা নামা করলে ঠিক কাজ নাও পাওয়া যেতে পারে।

২. খুব ঘন ঘন বিদ্যুৎ সরবরাহ অফ অন করা যাবে না।

৩. বড় মোটরে ব্যবহার করা যাবে না। উর্ধ্বে ৬০০ ওয়াটের মোটরের সাথে ব্যবহার করা যাবে।


৪। থার্মিস্টার বা পি.টি.সি রিলে 

এ ধরনের রিলেকে ( PTC ) Positive Temperature Coefficient পজেটিভ টেম্পারেচার কো-ইফিসিয়েন্ট রিলে বলা হয়। এ ধরনের রিলেতে স্টাটিং কয়েলের সাথে সিরিজে একটি থার্মস্টার থাকে যা ঠান্ডা অবস্থায় স্টাটিং কয়েলের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ হতে দেয়। কিন্তু মোটর স্টার্ট হবার সাথে সাথেই এটি গরম হয়ে অতিরিক্ত রেজিস্ট্যান্স প্রদর্শন করে। ফলে মোটরের রানিং অবস্থায় স্টাটিং কয়েলের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। আবাসিক রিফ্রিজারেটর মোটরের অধিক ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে এটি একটি বহুল ব্যবহৃত রিলে।

৫। সলিড টেস্ট ইলেকট্রনিক রিলে 

সলিড টেস্ট ইলেকট্রনিক রিলে ( Solideate Electric Relay ) এ ধরনের রিলের মূল কার্যকারী অংশ ট্রানজিস্টর। এটি বর্তমানে হারমেটিক কম্প্রেসার মোটর চালু করার জন্য প্রচলিত রিলের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে। একটি হারমেটিক কম্প্রেসার মোটর চালু হওয়ার পর মুহূর্ত থেকে পূর্ণ গতিপ্রাপ্ত হওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত ইলেকট্রনিক রিলের মধ্যে যে পরিবর্তন ঘটে তার প্রভাবে এটি মোটরের স্টার্টিং ওয়াইন্ডিংয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয় এবং মোটর চালু হলেই বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ করে দেয়। এই রিলের বৈশিষ্ট্য হলো ৬০ ওয়াট থেকে ২৫০ ওয়াটের হারমেটিক মোটরে একই মানের ও একই সাইজের রিলে ব্যবহার করা যায়।

৬‌। ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক রিলে 

ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক রিলে ( Electro Magnetic Relay ) এ ধরনের রিলেতে একটি কয়েল ও একটি আর্মেচার থাকে। যখন বর্তনীতে সরবরাহ দেয়া হয়, তখন কয়েকটি চুম্বকত্ব প্রাপ্ত হয়ে আর্মেচারকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 

ফলে স্টাটিং সুইচ অন হয়ে মোটর চলতে থাকে। মোটর পূর্ণ গতিতে আসার পর স্টাটিং কয়েলে সরবরাহ কমতে থাকে। এতে কয়েলের চুম্বকত্ব কমে যায় এবং আর্মেচার স্প্রিং আর্মেচারকে টেনে পূর্বের অবস্থায় নিয়ে আসে। ফলে সরবরাহ লাইন হতে স্টাটিং কয়েল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

৭। লক-আউট রিলে  

লক-আউট রিলে ( Lock Out Relay ) এই ধরনের ডিভাইসের কয়েল ভোল্টেজ এবং রিলের কয়েল ভোল্টেজ সমান থাকে। এটির কন্ট্যাক্টটি সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করে থাকে। ম্যাগনেটিক কন্ট্যাক্টটি সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করে থাকে। ম্যাগনেটিক কন্ট্যাক্টের সাথে রিলে কন্ট্যাক্ট সিরিজে সংযোগ থাকে এবং ম্যাগনেটিক কন্ট্যাক্ট কয়েলটি ম্যাগনেটিক সংযোগের সাথে প্যারালে সংযোগ করা আছে। প্রেসার কাট-আউট ওভারলোড ও অন্যান্য সেফটি ডিভাইস মোটর বন্ধ করে দিলেও পুনরায় মোটর ইলেকট্রিক শক্তিপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত লক-আউট রিলে মোটরকে চালু রাখে। 

রিলে কোথায় ব্যবহার করা হয় 

কারেন্ট কয়েল রিলে  

রেফ্রিজারেটর, ডিপ ফ্রিজার, আইস কিউবমেকার, ডিহিউমিডিফায়ার, ছোট কন্ডেনসিং ইউনিট ইত্যাদিতে কারেন্ট কয়েল রিলে ব্যবহার করা হয়।


পটাসিয়াম রিলে 

এয়ার কুলার, কন্ডেনসিং ইউনিট, ওয়াটার কুলার ইত্যাদিতে পটাসিয়াম রিলে ব্যবহার করা হয়।

হটওয়্যার বা বাইমেটাল রিলে

রেফ্রিজারেটর, ডিহিউমিডিফায়ার ইত্যাদিতে হটওয়্যার রিলে ব্যবহার করা হয়।

থার্মিস্টর বা পি. টি. সি রিলে 

রেফ্রিজারেটর, ছোট কন্ডেনসিং ইউনিট, ডিহিউমিডিফায়ার, ডিপ ফ্রিজার, আইস মেকার ইত্যাদিতে থার্মিস্টার বা পি. টি. সি রিলে ব্যবহার করা হয়।

ইলেকট্রিক রিলে

রিফ্রিজারেটর, ডিপ ফ্রিজার, ওয়াটার কুলার, বেভারেজ কুলার, ডিহিউমিডিফায়ার ইত্যাদিতে ইলেকট্রিক রিলে ব্যবহার করা হয়।

ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক রিলে 

বরফকল, ফ্যান, হিমাগার, সেন্ট্রাল শীতাতপ ও ফ্রিজিং প্লান্টের পরিমাণ করার হয় এসব ক্ষেত্রে ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক রিলে ব্যবহার করা হয়।

লক আউট রিলে 

বরফকল, ফ্যান, হিমাগার, সেন্ট্রাল শীতাতপ ও ফ্রিজিং প্লান্টের পরিমাণ করার হয় এসব ক্ষেত্রে ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক রিলে ব্যবহার করা হয়।


শেষ কথা: 

রিলে সম্পর্কে অনেক আলোচনা করা হয়েছে। যদি কিছু বাদ বা ভুল থাকে তবে আমাকে জানাবেন আমি পরিবর্তন করে দেবো। সবাই ভালো থাকবেন আজ এই পর্যন্তই। 

আল্লাহ হাফেজ।



 


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url