ক্যাপাসিটর কি | ক্যাপাসিটর কিভাবে কাজ করে | Capacitor definition

 

ক্যাপাসিটর কি ? ক্যাপাসিটর কিভাবে কাজ করে | Capacitor definition in electronics

ক্যাপাসিটর কি ? ক্যাপাসিটর কিভাবে কাজ করে | How does a capacitor work?




ক্যাপাসিটর 

ক্যাপাসিটর শব্দের অর্থ হলো ধারক। যে বস্তু কোনো কিছু ধরে রাখতে পারে তাকে ধারক বলে। ক্যাপাসিটর চার্জকে ধরে রাখতে পারে বলে এর নাম ধারক বা ক্যাপাসিটর। 

ধাতু বা যেকোনো পরিবাহী পদার্থের দু'টি পাতকে পাশাপাশি সমান্তেরাল ভাবে স্হাপন করে এদের মাঝখানে একটি ইনস্যুলেটর বা অপরিবাহী পদার্থ রেখে পাত দু'টিকে পৃথক করা হলে একটি ক্যাপাসিটর গঠিত হয়। ক্যাপাসিটরে পরিবাহী পাত দু'টিকে বলা হয় প্লেট বা ইলেকট্রোড এবং মাঝখানের অপরিবাহী পদার্থকে বলা হয় ডাই-ইলেট্রিক।


ফ্যারাড 

ক্যাপাসিটরের ক্যাপাসিটি নির্ণয় করার জন্য যে একক ব্যবহার করা হয় তাকে ফ্যারাড বলে। অর্থাৎ কোন পরিবাহকের ভোল্টেজ ১ ওহম বাড়াতে ১ কুলম্ব চার্জের প্রয়োজন হয়, তাহলে ঐ পরিবাহকের ধারকত্বকে ১ ফ্যারাড বলে। একে fd দ্বারা প্রকাশ করা হয়।



মাইক্রো ফ্যারাড 

এক ফ্যারাডের দশ লক্ষ ভাগের এক ভাগকে এক মাইক্রো ফ্যারাড বলে। সাধারণত ক্যাপাসিটরের গায়ে ক্যাপাসিটি উল্লেখ করা থাকে। যেমন- 15uf, 2.5uf, 4uf ইত্যাদি।


ক্যাপাসিট্যান্স 

যে ধর্ম এর গুণে কোন পরিবাহকের বিভব প্রতি একক বাড়াতে যে পরিমাণ চার্জের প্রয়োজন হয়, তা ঐ পরিবাহকের চার্জকেই ক্যাপাসিট্যান্স বলে। যখন কন্ডাক্টর এর মধ্যে Q to V পর্যন্ত হয়, 

তা পরিবাহীকের ক্যাপাসিট্যান্স, C= Q ÷ V

S.I পদ্ধতিতে ক্যাপাসিট্যান্স- এর একক ফ্যারাড। সুতরাং ছোট এবং ব্যবহারিক একক হিসেবে মাইক্রো-ফ্যারাড, পিকো-ফ্যারাড, নানো-ফ্যারাড অথবা মাইক্রো-মাইক্রো ফ্যারাডে সাধারণত ব্যবহার হয়ে থাকে।


ক্যাপাসিটর কাকে বলে

দু'টি পরিবাহী পদার্থকে পাশাপাশি সমান্তেরাল ভাবে স্হাপন করে এদের একটি অপরিবাহী মাধ্যম দ্বারা পৃথক করা হলে যে ডিভাইসের সৃষ্টি হয়, তাকে ক্যাপাসিটর বলে।


ক্যাপাসিটর কেন ব্যবহার করা হয়

ক্যাপাসিটরের কাজ হচ্ছে মোটরকে চালু করতে সাহায্য করা।এটি মোটরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং পাওয়ার ফ্যাক্টরের উন্নতি ঘটায়। সিঙ্গেল ফেজ মোটরে ক্যাপাসিটর ব্যবহার করা হলে দু'ফেজ কার্যধারা সৃষ্টি হয়। ফলে মোটরের স্টার্টিং টর্ক বৃদ্ধি পায়, যা মোটরকে স্ট্যার্ট করতে সহায়তা করে। অধিক লোডে মোটরকে চালু রাখতেও ক্যাপাসিটরের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। অর্থাৎ অধিক রোগে সাপ্লাই লাইন হতে যখন প্রয়োজনীয় ভোল্টেজ পাওয়া যায় না, ক্যাপাসিটর তখন এর সঞ্চিত শক্তি প্রয়োগ করে মোটরকে চালু বা গতিশীল রাখতে সহায়তা করে। তাই চার্জ ধারণ করা, মোটরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করা, সিঙ্গেল ফেজ মোটরে স্ট্যাটিং টর্ক সৃষ্টি করা, ওভারলোডে মোটরকে গতিশীল রাখা, পাওয়ার ফ্যাক্টরের উন্নতি ঘটানো ইত্যাদি কাজে ক্যাপাসিটর ব্যবহার করা হয়।



ক্যাপাসিটর কত প্রকার ও কি কি 

ক্যাপাসিটর প্রধানত দু'প্রকার হয়ে থাকে-


১। ফিক্সড ক্যাপাসিটর 

যে সকল ক্যাপাসিটরের মান স্হির থাকে, তাকে স্হির ধারক বা ফিক্সড ক্যাপাসিটর বলে। ধারণ-ক্ষমতা, আকৃতি এবং ব্যবহৃত ডাই-ইলেকট্রিকের ওপর ভিত্তি করে ক্যাপাসিটর বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন- ডাই-ইলেকট্রিক হিসেবে পেপার ব্যবহৃত হলে, তাকে পেপার ক্যাপাসিটর বলে। অনুরূপ ভাবে মাইকা, সিরামিক এবং পলিয়েস্টার ব্যবহৃত হলে, তাকে যথাক্রমে মাইকা, সিরামিক এবং পলিয়েস্টার ক্যাপাসিটর বলে। আবার ডাই-ইলেকট্রিক হিসেবে কোনো উপযুক্ত ইলেকট্রোলাইট, অর্থাৎ কোনো তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বা কোনো তরল পরিবাহী ব্যবহার হলে, তাকে ইলেকট্রোলাইট ক্যাপাসিটর বলে। এধরনের ক্যাপাসিটরে পোলারিটি চিহ্নিত করা থাকে। অর্থাৎ এতে পজেটিভ (+) ও নেগেটিভ (-) চিহ্ন দেখা যায়।


২। ভ্যারিয়েবল ক্যাপাসিটর 

যে ক্যাপাসিটরের মান পরিবর্তন করা যায়, তাকে পরিবর্তনশীল ধারক বা ভ্যারিয়েবল ক্যাপাসিটর বলে। ভ্যারিয়েবল ক্যাপাসিটর দু'ধরনে হয়‌। এয়ার টিউন্ড এবং মাইকা টিউন্ড। এয়ার টিউন্ড ক্যাপাসিটরে ডাই-ইলেকট্রিক হিসেবে বাতাস এবং মাইকা টিউন্ড ক্যাপাসিটরে ডাই-ইলেকট্রিক হিসেবে মাইকা ব্যবহৃত হয়। এ ধরনের ক্যাপাসিটরের মান পরিবর্তনের ব্যবস্হা থাকে। 


ক্যাপাসিটর এর সূত্র 

ক্যাপাসিটর এর সূত্র : ক্যাপিসিট্যান্স, চার্জ ও ভোল্টেজ এর মধ্যে সম্পর্ক। 

C = ক্যাপাসিটর,  Q = চার্জ, V = ভোল্টেজ।



ক্যাপাসিটর মাপার নিয়ম 

প্রথমে একটি অ্যাভোমিটার নিয়ে এর সিলেকটিং নবকে ঘুরিয়ে এর উচ্চ ওহম স্কেলে (1M) স্হাপন করে জিরো অ্যাডজাস্টমেন্ট স্ক্রুর সাহায্যে সূচক কাঁটার ( Pointer) অবস্থান ঠিক করে নিতে হবে। এবার একটি ক্যাপাসিটর (ইলেকট্রোলাইট) নিয়ে মিটার প্রোব দু'টিকে এর দু'টার্মিনালের সাথে ধরতে হবে। ধরার সাথে সাথে সূচক কাঁটাটি পূর্ণ ডিফ্লেকশন দিয়ে যদি আস্তে আস্তে পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসে এবং প্রোব দু'টি উল্টিয়ে ধরলে যদি একই ফলাফল পাওয়া যায়, তবে বুঝতে হবে ক্যাপাসিটরটি ভালো। পূর্ণ ডিফ্লেকশন দিয়ে যদি কাঁটাটি আর ফিরে না আসে, তবে বুঝতে হবে ক্যাপাসিটরটি শর্ট। আবার যদি কোনো ডিফ্লেকশন না দেয়, তবে বুঝতে হবে ক্যাপাসিটরটি ওপেন। আবার যদি পূর্ণ ডিফ্লেকশন দেয়ার পর ফিরে আসার সময় মাঝপথে থেমে যায়, তবে বুঝতে হবে ক্যাপাসিটরটি লীক করেছে। 

আবার সাধারণ ক্যাপাসিটরের (নন-ইলেকট্রোলাইটিক) ক্ষেত্রে যদি সূচক কাঁটার অবস্থান পরিবর্তন করে, তবে বুঝতে হবে ক্যাপাসিটরটি শর্ট, যদি না করে তবে বুঝতে হবে ক্যাপাসিটরটি ভালো অথবা ওপেন।


ফ্যানের ক্যাপাসিটর এর কাজ কি 

অয়েট টাইপ ক্যাপাসিটর এ ধরনের ক্যাপাসিটর ফ্যান, মোটর ইত্যাদিতে ব্যবহার হয়ে থাকে। তাই একে রানিং ক্যাপাসিটরও বলা হয়। এটি মোটরের রানিং ওয়াইন্ডিং-এর সাথে সিরিজে সংযোগ করা থাকে। এ ধরনের ক্যাপাসিটরের একটি ইলেকট্রোড অ্যালুমিনিয়ামের এবং অন্যটি ইলেকট্রোলাইটিক সলিউশন (সাধারণত অ্যামোনিয়া, বরিক এসিড এবং পানির সংমিশ্রণ) দ্বারা তৈরি। ক্যাপাসিটরের ভেতর দিয়ে যখন কারেন্ট প্রবাহিত হয়, তখন অ্যালুমিনিয়াম প্লেটটির ওপর অক্সাইডের একটি পাতলা আস্তরণ পড়ে এবং উক্ত আস্তরণটিই ডাই-ইলেকট্রিক হিসেবে কাজ করে। এর মান সাধারণত ২ হতে ৫০ মাইক্রোফ্যারাড পর্যন্ত হয়ে থাকে।


শেষ কথা

এখানে ক্যাপাসিটর সম্পর্কে একটি ধারণা মাত্র যদি কারো কাছে কোন প্রশ্ন বা আলোচনার তথ্য ভুল থাকলে আমাকে কমেন্ট করবেন। আমি সংশোধন করে দেবো। কোন কিছু বুঝতে না পারলে ও জানাবেন। আমি উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। আমার লেখাটি পড়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।




Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url